✔ সরকারি গেজেট অনুযায়ী
✔ ২০২৬ আপডেটেড
✔ কাজীর খরচসহ হিসাব
✔ সম্পূর্ণ ফ্রি
সর্বশেষ আপডেট: মে ২০২৬
কাবিন বা বিবাহ নিবন্ধন ফি ক্যালকুলেটর ২০২৬
দেনমোহর ও কাজীর খরচ হিসাব করুন
দেনমোহর ও যাতায়াতের দূরত্ব ইনপুট দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের রেজিস্ট্রেশন ফি জেনে নিন
🔥 ৫০,০০০+ মানুষ এই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করেছেন
কাবিন বা বিবাহ নিবন্ধন কী? (Marriage Registration)
বাংলাদেশের প্রচলিত 'মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪' অনুযায়ী প্রতিটি বিবাহ ও তালাক সরকারিভাবে রেজিস্ট্রি বা নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। কাবিন হলো এই নিবন্ধনের প্রমাণপত্র বা আইনি দলিল। এটি শুধু ধর্মীয়ভাবে নয়, বরং সামাজিকভাবে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার, দেনমোহরের নিশ্চয়তা এবং সন্তানের বৈধতা প্রমাণের জন্য সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। কাবিন ছাড়া স্বামী বা স্ত্রী একে অপরের সম্পদের উত্তরাধিকারী হতে পারেন না। তাই বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত কাজী (নিকাহ রেজিস্ট্রার) দ্বারা কাবিন সম্পন্ন করা অপরিহার্য।
কাবিন ফি কীভাবে নির্ধারণ করা হয়? (২০২৬ সালের নতুন সরকারি গেজেট)
অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে marriage registration fee বা কাজীর খরচ আসলে কত? বাংলাদেশ আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট গেজেটের মাধ্যমে এই ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে, যাতে কোনো কাজী অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে না পারেন। নিয়মটি খুবই সহজ:
- প্রথম ৫ লক্ষ টাকা দেনমোহরের জন্য: প্রতি ১ হাজার টাকার জন্য ১৪ টাকা ফি দিতে হবে।
- ৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে: ৫ লক্ষের পরের প্রতি লক্ষ টাকার জন্য মাত্র ২০০ টাকা অতিরিক্ত ফি দিতে হবে।
- সর্বনিম্ন কাবিন ফি: দেনমোহর যতই কম হোক না কেন, সর্বনিম্ন ২০০ টাকা ফি দিতে হবে।
- তালাক ফি: তালাক বা ডিভোর্স রেজিস্ট্রেশনের সরকারি ফি হলো ১০০০ টাকা।
দেনমোহর অনুযায়ী কাবিন ফির তালিকা (Comparison Table)
| মোট দেনমোহর |
মূল কাবিন ফি (টাকায়) |
হিসাব/মন্তব্য |
| ১,০০,০০০ টাকা |
১,৪০০ টাকা |
(১০০ x ১৪) |
| ৩,০০,০০০ টাকা |
৪,২০০ টাকা |
(৩০০ x ১৪) |
| ৫,০০,০০০ টাকা |
৭,০০০ টাকা |
(৫০০ x ১৪) - সর্বোচ্চ ১৪ টাকা রেট |
| ৬,০০,০০০ টাকা |
৭,২00 টাকা |
(৫ লাখের জন্য ৭০০০ + ১ লাখের জন্য ২০০) |
| ১০,০০,০০০ টাকা |
৮,০০০ টাকা |
(৫ লাখের জন্য ৭০০০ + পরবর্তী ৫ লাখের জন্য ১০০০) |
রিয়েল ক্যালকুলেশন উদাহরণ (Practical Example)
ধরা যাক, একটি বিয়েতে দেনমোহর ৫,০০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কাজী সাহেব ১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিয়ে পড়াতে এসেছেন। সেক্ষেত্রে kazi fee bd বা খরচ হবে:
১. কাবিন ফি: (৫০০ x ১৪) = ৭,০০০ টাকা।
২. কাজীর কমিশন ফি = ৫০ টাকা।
৩. যাতায়াত খরচ (১ কি.মি.) = ১০ টাকা।
৪. অনুলিপি বা কাবিননামার কপি তোলার ফি = ৫০ টাকা।
সর্বমোট খরচ: ৭,১১০ টাকা।
কাজীর কমিশন কত এবং অতিরিক্ত টাকা চাইলে কী করবেন?
সরকারি আইন অনুযায়ী কাজী সাহেব একটি বিয়ে পড়ালে কমিশন হিসেবে মাত্র ৫০ টাকা এবং যাতায়াত খরচ হিসেবে প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা নিতে পারবেন। যদি কোনো কাজী সরকারি গেজেটের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন বা জোরপূর্বক আদায় করার চেষ্টা করেন, তবে আপনি সরাসরি উপজেলা বা জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে, অথবা আইন মন্ত্রণালয়ের নিকাহ রেজিস্ট্রার শাখায় লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন।
ভুয়া কাজীর প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়
অনেক সময় অসাধু ব্যক্তিরা ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে প্রতারণা করে। একটি কাবিননামা আসল না নকল তা বোঝার সেরা উপায় হলো সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বা আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ওই কাজীর লাইসেন্স নম্বর যাচাই করা। মনে রাখবেন, ভুয়া কাবিন তৈরি করা দণ্ডবিধির অধীনে একটি মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ, যার শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
কাবিননামার গুরুত্বপূর্ণ কলাম (১৪ ও ১৫ নম্বর কলাম)
কাবিননামায় মোট ২৫টি কলাম থাকে। এর মধ্যে ১৩ থেকে ১৫ নম্বর কলাম দেনমোহর সংক্রান্ত। মুয়াজ্জল (Prompt) মানে হলো নগদ দেনমোহর, যা স্ত্রী চাওয়ামাত্র সাথে সাথে পরিশোধ করতে হয়। আর মুয়াজ্জাল (Deferred) মানে হলো বাকি বা বকেয়া দেনমোহর, যা মৃত্যু বা তালাকের পর পরিশোধ করতে হয়। কাবিনের সময় গয়না বা নগদ টাকা দিলে তা অবশ্যই কাবিননামার ১৫ নম্বর কলামে উল্লেখ করে 'উসুল' হিসেবে লিখিয়ে নেওয়া উচিত।
কাবিন করতে কি কি লাগে?
কাবিন বা নিকাহ রেজিস্ট্রির জন্য বর ও কনের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্মনিবন্ধন সনদ, ২ কপি করে পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ন্যূনতম ২ জন সাক্ষী এবং একজন উকিল বাবার (কনের পক্ষ থেকে) প্রয়োজন হয়।
কাবিন ফি কে দেয়?
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাবিন বা বিবাহ নিবন্ধনের সম্পূর্ণ ফি বরের (স্বামীর) পক্ষ থেকে প্রদান করতে হয়। তবে ডিভোর্স বা তালাক নিবন্ধনের ক্ষেত্রে যে পক্ষ তালাক দিচ্ছে, তাকে ফি দিতে হয়।
কাবিন রেজিস্ট্রি ফি কত?
২০২৬ সালের নতুন সরকারি গেজেট অনুযায়ী প্রতি ১ হাজার টাকা দেনমোহরের জন্য ১৪ টাকা করে কাবিন ফি দিতে হয় (৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত)। সর্বনিম্ন ফি ২০০ টাকা।
দেনমোহর ৫ লাখ হলে কত ফি?
দেনমোহর ৫ লক্ষ টাকা হলে প্রতি হাজারে ১৪ টাকা করে মোট ফি হবে ৭,০০০ টাকা। এর সাথে যাতায়াত ও কাজীর কমিশন ফি যুক্ত হবে।
কাজীর কমিশন কত?
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিবাহ বা তালাক নিবন্ধনের জন্য কাজীর কমিশন ফি হলো মাত্র ৫০ টাকা এবং যাতায়াত খরচ প্রতি কিলোমিটারে ১০ টাকা।
কাবিননামার কপি তুলতে কত টাকা লাগে?
কাজী অফিস থেকে কাবিননামার সার্টিফাইড কপি বা অনুলিপি তোলার সরকারি ফি হলো ৫০ টাকা।
তালাক রেজিস্ট্রি ফি কত?
তালাক বা ডিভোর্স নিবন্ধনের সরকারি ফি হলো ১,০০০ টাকা। এর সাথে কাজীর কমিশন (৫০ টাকা) এবং যাতায়াত খরচ (যদি থাকে) যুক্ত হবে।
ভুয়া কাজী চিনবো কিভাবে?
কাবিন করার আগে আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (lawjusticediv.gov.bd) বা সংশ্লিষ্ট উপজেলা/সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে আপনার এলাকার বৈধ 'নিকাহ রেজিস্ট্রার'-এর নাম ও লাইসেন্স নম্বর যাচাই করে নিতে পারেন।
কাবিন না করলে কি শাস্তি?
মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী বিয়ের ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৩,০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
দেনমোহর কম হলে ফি কত?
দেনমোহর যাই হোক না কেন, সর্বনিম্ন কাবিন ফি হলো ২০০ টাকা। অর্থাৎ দেনমোহর ১৪ হাজার টাকার নিচে হলেও ২০০ টাকা ফি দিতে হবে।
কাবিন ফি কি সরকার নির্ধারণ করে?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ সরকার আইন মন্ত্রণালয়ের গেজেটের মাধ্যমে কাবিন ফি বা নিকাহ রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করে দেয়। কাজী এর চেয়ে বেশি টাকা দাবি করতে পারেন বিন্দু পরিমাণও না।
২০২৬ সালের নতুন গেজেট কবে?
আইন ও বিচার মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট সময় পরপর ফি সমন্বয় করে। ২০২৬ সালেও পূর্বের গেজেটের (প্রতি হাজারে ১৪ টাকা রেট) নিয়মটিই বলবৎ রয়েছে।
মুসলিম বিবাহ নিবন্ধন আইন কী?
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪ হলো বাংলাদেশের মুসলমানদের বিবাহ ও তালাক সরকারিভাবে রেজিস্ট্রি করার একমাত্র বৈধ আইন।
কাবিননামার ১৩ নম্বর কলাম কী?
কাবিননামার ১৩ নম্বর কলামে বিয়ের দেনমোহরের মোট পরিমাণ (অঙ্কে ও কথায়) লেখা থাকে। এটি স্ত্রীর আইনি অধিকারের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
মুয়াজ্জল ও মুয়াজ্জাল মানে কী?
মুয়াজ্জল (Prompt) মানে হলো নগদ দেনমোহর যা চাওয়া মাত্র দিতে হয়। আর মুয়াজ্জাল (Deferred) মানে হলো বকেয়া দেনমোহর যা মৃত্যু বা তালাকের পর দিতে হয়।
কাজী অতিরিক্ত টাকা চাইলে কী করবেন?
কাজী যদি সরকারি গেজেটের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন, তবে আপনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO), জেলা রেজিস্ট্রার বা আইন মন্ত্রণালয়ের নিকাহ রেজিস্ট্রার শাখায় লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন।
কাবিন কোথায় হয়?
কাবিন সাধারণত বিবাহ অনুষ্ঠানে কাজী সাহেবের উপস্থিতিতে অথবা সরাসরি কাজী অফিসে গিয়ে করা যায়। তবে যে এলাকার বিবাহ, সেই এলাকার নির্দিষ্ট কাজী দ্বারাই কাবিন করতে হয়।